ভবানী মুণ্ডার গল্প: চা বাগানের অন্ধকার থেকে ফুটবলের আলোকমঞ্চে"



ভবানী মুণ্ডার গল্প: চা বাগানের অন্ধকার থেকে ফুটবলের আলোকমঞ্চে"

📜 বিশদ প্রতিবেদন:
ডুয়ার্সের চা বাগানের শ্রমিকের মেয়ে থেকে নারীদের ফুটবলের প্রতীক হয়ে ওঠা ভবানী মুণ্ডার জীবন যেন এক রূপকথার গল্প। কঠিন সামাজিক ও আর্থিক বাধা পেরিয়ে তিনি শুধু নিজের জায়গা তৈরি করেননি, বরং ডুয়ার্সের মেয়েদের ফুটবলে নতুন দিশা দেখিয়েছেন।

⚽ শৈশবের সংগ্রাম:

আলিপুরদুয়ারের কালচিনি ব্লকের এক চা বাগান শ্রমিক পরিবারে জন্ম ভবানী মুণ্ডার। মাত্র সাত বছর বয়সে ফুটবলের প্রতি তাঁর ভালোবাসা জন্মায়। কিন্তু ফুটবলের অভাবে বাতাবি লেবু দিয়েই প্র্যাকটিস শুরু করেন।

🔥 সমাজের চ্যালেঞ্জ:

গ্রামের মানসিকতা, যা মেয়েদের খেলার অনুমতি দেয় না, সেখান থেকে নিজেকে প্রমাণ করতে তাঁকে বারবার বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে। হাফপ্যান্ট পরে ফুটবল খেলা মেয়েকে ঘিরে সমাজের বিরোধিতা তাঁকে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করে।

✨ সাফল্যের আলোকিত পথ:

সমাজের বাধা অতিক্রম করে ভবানী মুণ্ডা মেয়েদের ফুটবলে অসামান্য পারফরম্যান্স দেখান। তাঁর দক্ষতা তাঁকে "গোলমেশিন" নাম এনে দেয়। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তিনি "বঙ্গরত্ন সম্মান" লাভ করেন।

💡 ডুয়ার্স একাদশের প্রতিষ্ঠা:

নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবানী ডুয়ার্সের মেয়েদের নিয়ে "ডুয়ার্স একাদশ" ক্লাব তৈরি করেন। শুধু ফুটবল নয়, জীবনের শিক্ষাও তিনি প্রদান করেন এই ক্লাবের মাধ্যমে।

🌟 সাম্প্রতিক সংবর্ধনা:

সম্প্রতি কলকাতায় ভবানী মুণ্ডাকে সংবর্ধিত করে মা পেস্ট কন্ট্রোল এলএলপি এবং সিটিজেনারি সাইবার সুরক্ষা অ্যাসোসিয়েশন। তাঁকে একটি স্মারক ফলক, জার্সি এবং ফুটবল প্রদান করা হয়। উপস্থিত ছিলেন কলকাতা প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট স্নেহাশিস সুর এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

💪 অনুপ্রেরণার প্রতীক:

আজও ভবানী তাঁর চায়ের দোকান চালান। কিন্তু এর পাশাপাশি তিনি ডুয়ার্সের মেয়েদের স্বপ্ন দেখাতে সাহায্য করছেন। তিনি শুধু একজন ফুটবল কোচ নন, বরং সমাজের পরিবর্তনের প্রতীক।

ভবানী মুণ্ডার জীবন আমাদের শেখায়, সংগ্রাম আর আত্মবিশ্বাস থাকলে প্রতিকূলতাকে জয় করা সম্ভব। আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না।

#BhavaniMunda #AdivasiPride
#WomenInSports #BengalFootball
#InspiringStories

Post a Comment

0 Comments