v প্রতিবেদন:
গত
২২
অক্টোবর ২০২৩,
ভারত
জাকাত
মাঝি
পারগানা মহলের
অন্যতম
প্রভাবশালী নেতা
অর্জুন
হেমব্রমের ট্রেন
দুর্ঘটনায় অকাল
মৃত্যু
সাঁওতাল সমাজে
গভীর
শোক
ও
সংশয়
সৃষ্টি
করেছে।
একজন
ন্যায্যবাদী এবং
নিরপেক্ষ সংগঠক
হিসেবে
তিনি
সাঁওতাল সম্প্রদায়ের জন্য
নিঃস্বার্থভাবে কাজ
করতেন।
তাঁর
হঠাৎ
মৃত্যু
অনেকের
কাছেই
একটি
সাধারণ
দুর্ঘটনা হিসেবে
মেনে
নেওয়া
কঠিন
হয়েছে। সাঁওতাল সমাজের
বড়
বড়
সংগঠন
থাকা
সত্ত্বেও এখন
পর্যন্ত CID বা
CBI তদন্তের দাবি
জানানো
হয়নি,
যা
সংশয়
আরও
বাড়িয়েছে।
এখানে কয়েকটি বিশেষ বিষয় রয়েছে, যা অর্জুন বাবুর মৃত্যুকে ঘিরে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এই বিষয়গুলো স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত, তাঁর মৃত্যু কি শুধুই দুর্ঘটনা, নাকি ষড়যন্ত্রের ফসল, তা বোঝা অসম্ভব।
১. সহযোদ্ধার আচরণ নিয়ে প্রশ্ন:
অর্জুন
বাবুর
মৃত্যুর পরপরই
তাঁর
বিশেষ
সহযোদ্ধা, যিনি
তার
অনেক
পরিকল্পনার অংশীদার ছিলেন,
হঠাৎ
নিখোঁজ
হন।
কেন
এই
সহযোদ্ধা আত্মগোপন করলেন?
কেন
তিনি
অর্জুন
বাবুর
পরিবার
কিংবা
সমাজের
সঙ্গে
কোনো
যোগাযোগ রাখেননি? এই
আচরণটি
স্বাভাবিক নয়
এবং
এর
পেছনের
কারণ
পরিষ্কার হওয়া
প্রয়োজন।
২.
পরিবারের প্রতি
অবহেলা:
অর্জুন
বাবুর
মৃত্যুর পর
তার
বিশেষ
বন্ধুটি কখনোই
তাঁর
পরিবারের কাছে
গিয়ে
সমবেদনা জানাতে
যাননি।
একজন
ঘনিষ্ঠ
সহযোদ্ধা ও
বন্ধু
হিসেবে
এটি
অত্যন্ত অস্বাভাবিক আচরণ।
তাঁর
এই
দূরত্ব
কেন?
কী
এমন
কারণে
তিনি
পরিবারের সঙ্গে
যোগাযোগ করতে
চাননি?
৩. অরাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে রাজনৈতিক মঞ্চে:
অর্জুন
হেমব্রম ছিলেন
এক
অরাজনৈতিক নেতা।
তিনি
টোটেমিক সিস্টেমের ভেতরে
থেকে
কাজ
করতেন
এবং
কোনো
রাজনৈতিক দলকে
সমর্থন
করতেন
না।
তবে
আজ
তাঁর
কয়েকজন সহযোদ্ধা রাজনীতির মঞ্চে
এসে
উপস্থিত হয়েছেন। এই
দ্রুত
পরিবর্তন কীভাবে
ঘটল?
এর
পেছনে
কি
কোনো
রাজনৈতিক চক্রান্ত বা
ব্যক্তিগত স্বার্থ আছে?
৪. মেয়ের সাক্ষাৎকারের উপেক্ষা:
অর্জুন
বাবুর
মেয়ে
এক
সাক্ষাৎকারে এই
বিষয়ে
গুরুত্বপূর্ণ কিছু
তথ্য
প্রকাশ
করেছেন। তিনি
স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে,
তাঁর
পিতার
মৃত্যু
নিয়ে
কিছু
অজানা
সত্য
রয়ে
গেছে।
কেন
তাঁর
বক্তব্যের ভিত্তিতে কোনো
পূর্ণ
তদন্ত
করা
হলো
না?
সংগঠনগুলো কেন
এই
বিষয়ে
এতটা
উদাসীন?
৫.
বিশ্বাসঘাতকদের দাবি:
যাঁরা
বলছেন
যে
এই
বিষয়ে
পূর্ণ
তদন্ত
হয়েছে,
তাঁদের
বক্তব্য কতটা
সঠিক?
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলের পীর
বা
মুলকরা
কেন
সেই
তদন্তের রিপোর্ট পাননি?
তদন্তের রিপোর্ট যদি
সত্যিই
হয়ে
থাকে,
তাহলে
সেই
রিপোর্টের প্রমাণ
জনসাধারণের কাছে
কেন
আসছে
না?
v সন্দেহজনক পরিস্থিতি:
উপরের
সমস্ত
প্রশ্ন
এবং
পরিস্থিতি অর্জুন
বাবুর
মৃত্যুর পেছনে
গভীর
ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত
দেয়।
তাঁর
মৃত্যু
দুর্ঘটনা হিসেবে
মেনে
নেওয়ার আগে
সুষ্ঠু
তদন্ত
অত্যন্ত জরুরি।
অর্জুন
বাবু
ছিলেন
একজন
সাহসী
এবং
ন্যায়বিচারপ্রেমী নেতা।
তাঁকে
হারিয়ে সাঁওতাল সমাজ
যেমন
গভীর
শোকের
মধ্যে
রয়েছে,
তেমনই
এই
ঘটনার
পিছনে
অন্য
কোনো
চক্রান্ত আছে
কিনা
তা
নিয়ে
দুশ্চিন্তায় রয়েছে।
v সাংগঠনিক উদাসীনতা:
সাঁওতাল সমাজের
বিভিন্ন বড়
সংগঠনগুলোর পক্ষ
থেকে
এখনও
পর্যন্ত CID বা
CBI তদন্তের জন্য
কোনো
কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া
হয়নি।
এমন
একজন
প্রভাবশালী নেতার
মৃত্যু
নিয়ে
কোনো
তদন্তের দাবি
না
তোলা
সত্যিই
দুঃখজনক। যদি
এই
পরিস্থিতিতে সংগঠনগুলো চুপ
থাকে,
তাহলে
ভবিষ্যতে এমন
আরও
নেতাদের আমরা
হারাতে
পারি।
v উপসংহার:
অর্জুন
হেমব্রমের মৃত্যু
শুধু
সাঁওতাল সমাজের
ক্ষতি
নয়,
এটি
সারা
ভারতীয় আদিবাসী আন্দোলনের জন্য
একটি
বড়
আঘাত।
তাঁর
মতো
একজন
নেতার
মৃত্যু
নিছক
দুর্ঘটনা হিসেবে
ধামাচাপা পড়ে
গেলে
ন্যায়বিচারের পথ
রুদ্ধ
হবে।
এই
রহস্যের পর্দা
সরিয়ে
সত্য
উন্মোচনের জন্য
এখনই
CID বা
CBI তদন্তের দাবি
জানানো
প্রয়োজন।
সাঁওতাল সমাজের সচেতন নাগরিক হিসেবে এই বিষয়ে সঠিক তদন্তের দাবি তুলে ধরুন। একটি নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্তই কেবল সত্যের মুখোশ উন্মোচন করতে পারে। আমরা যদি এখন সোচ্চার না হই, তাহলে অর্জুন বাবুর মতো ন্যায়পরায়ণ নেতাদের আমরা বারবার হারিয়ে ফেলবো।

0 Comments