ILO কনভেনশন ১৬৯ স্বাক্ষরের প্রভাব এবং সুবিধা
১. জমির অধিকার ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা
ILO কনভেনশন ১৬৯-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জমির অধিকার। এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করলে তাদের জমি এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর অধিকারের স্বীকৃতি নিশ্চিত হতো। উদাহরণস্বরূপ, উন্নয়ন প্রকল্প বা খনির জন্য জমি অধিগ্রহণের সময় তাদের অধিকারের সুরক্ষা বাড়ানো যেত।
২. আদিবাসী সংস্কৃতি ও পরিচয়ের সুরক্ষা
কনভেনশন ১৬৯ আদিবাসী জনগণের সংস্কৃতি ও ভাষার স্বীকৃতি দেয়। এই চুক্তির মাধ্যমে তাদের ভাষা, ধর্ম এবং ঐতিহ্য রক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হতো। শিক্ষার ক্ষেত্রে সুযোগ বৃদ্ধি পেত এবং ভাষার সংরক্ষণে সরকার বাধ্য থাকত।
৩. আদিবাসীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন
ILO কনভেনশন ১৬৯ আদিবাসী জনগণের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের দিকেও গুরুত্ব দেয়। এই চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে তাদের জন্য বিশেষ প্রকল্প এবং স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা নিশ্চিত করা যেত।
৪. নিরাপত্তা ও সম্মতি ভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প
কনভেনশন ১৬৯-এর মাধ্যমে বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে আদিবাসীদের মতামত এবং সম্মতির বাধ্যবাধকতা থাকত। এতে তাদের স্বার্থ রক্ষা পেত এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর তাদের অধিকার বজায় থাকত।
৫. আন্তর্জাতিক সমর্থন ও সুরক্ষা
ILO কনভেনশন ১৬৯-এ স্বাক্ষরের মাধ্যমে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করা যেত, যা ভারতীয় আদিবাসীদের অধিকারের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারত।
উপসংহার: ILO কনভেনশন ১৬৯ স্বাক্ষর করলে ভারতের আদিবাসী জনগণের জমি অধিকার, সাংস্কৃতিক অধিকার এবং সম্মানজনক জীবনযাত্রার অধিকারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হত। তাদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত হতো।

0 Comments